
তানোরে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা ওসির, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিরলস প্রচেষ্টা
মোঃ নাসিরউদ্দিন সটাফ রিপোর্টার
মাদকের থাবা থেকে যুবসমাজ ও উঠতি বয়সীদের রক্ষা করতে এবং একটি অপরাধমুক্ত ও শান্তির জনপদ গড়তে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান। যোগদানের পর থেকেই মাদক কারবারি, সেবনকারী এবং অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তানোরকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দিনরাত অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসি মাহমুদুল হাসান তানোর থানায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনকেই তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মাদক নির্মূলে থানা পুলিশের নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে থানা পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না—এমন শক্ত বার্তা নিয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। মাদকের পাইকারি বিক্রেতা থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা এবং সেবনকারীদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকার আওতায় এনে তাদের আইনের মুখোমুখি করতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের মদদদাতা বা নেপথ্যের নায়কদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ওসি।
মাদকবিরোধী এই কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সচেতন মহলের মতে, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। উঠতি বয়সের যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। এমন একটি সময়ে তানোর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা এবং ওসির ব্যক্তিগত তদারকিতে রাতদিন অভিযান পরিচালনা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
মাদকের বিরুদ্ধে এই চলমান অভিযান সম্পর্কে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, “মাদক কেবল একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে মাদকের বিষবাষ্প সমাজ থেকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। তানোর থানাকে একটি শতভাগ মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। মাদকের সঙ্গে জড়িত যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ ধোপে টিকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূল একা পুলিশের পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন এবং জনসচেতনতা। মাদক কারবারি ও অপরাধীদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য আমি তানোর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। তথ্যদাতার নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।”
তানোরে পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। মাদকমুক্ত তানোর গড়ার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply