
মোহনপুরে মাসের ব্যবধানেই ভেঙে গেল কোটি টাকার গ্রামীণ রাস্তা,
পিআইও ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার,
খোন্দকার মেজবাউল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের সইপাড়া গ্রামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নবনির্মিত একটি রাস্তা উদ্বোধনের মাস পার না হতেই ভেঙে ও ধসে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে সামান্য সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রহমান ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. বাচ্চু রহমানের বিরুদ্ধে কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তিনি সংবাদকর্মীদের ফোন রিসিভ করছেন না। অন্যদিকে, প্রকল্পটির দেখভাল ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা মোহনপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) মো. তরিকুল ইসলাম এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলতে নারাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরেজমিন চিত্র:
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাকশিমইল ইউনিয়নের সইপাড়া গ্রামের এই রাস্তাটি গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মবহর্ভূতভাবে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালু এবং পরিমাণের চেয়ে কম পিচ বা খোয়া ব্যবহার করে নামমাত্র কাজ শেষ করেছে। ফলে বৃষ্টি কিংবা সামান্য যানবাহনের চাপেই কার্পেটিং ও খোয়া উঠে গিয়ে রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এক মাসও টিকেনি গ্রামীণ এই উন্নয়ন কাজটি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে এই রাস্তা এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।
ঠিকাদার ও পিআইও-র দায়িত্বে অবহেলা:
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ লুটপাটের উদ্দেশ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রহমান ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. বাচ্চু রহমান শুরু থেকেই কাজের মান চরমভাবে নিম্নমানের রেখেছিলেন। স্থানীয়রা বারবার বাধা দিলেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। বর্তমানে এই বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে প্রকল্পের সরকারি তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) মো. তরিকুল ইসলামের সরাসরি মাঠে থেকে কাজটি বুঝে নেওয়ার কথা ছিল। অথচ কাজের এই বেহাল দশা এবং ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকরা তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নিতে গেলে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন নীরবতা ও অনীহা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের দুর্নীতিরই ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জনগণের দাবি:
নিম্নমানের কাজের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ সৃষ্টি করায় এবং সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠায় এলাকাবাসী দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সাথে দায়িত্বরত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) মো. তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রহমান ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. বাচ্চু রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় দ্রুত রাস্তাটি টেকসইভাবে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply