
পুলিশ সদস্যও একজন মানুষ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মান্নানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁর অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিঃসন্দেহে অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন—পুলিশের পোশাক একজন মানুষকে তাঁর মানবিক অনুভূতি, পারিবারিক সংকট কিংবা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করে না।
পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কারণে মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সমস্যাটা মূলত স্ত্রীর সঙ্গে। তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও পুলিশের কাছে এসেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।
একজন মানুষের সংকটকে নিয়ে উপহাস না করে, তাঁর পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার পরিচয়। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল পেশায় থাকা একজন পুলিশ সদস্যের আচরণ ও কর্তব্যের বিষয়টিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হবে।
আমরা চাই না, কোনো পুলিশ সদস্য মানসিক বা পারিবারিক সংকটে পড়ে একা হয়ে যান। প্রয়োজন হলে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পরিবারের সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দিতে হবে।
পুলিশও মানুষ। ইউনিফর্মের আড়ালেও থাকে একটি মন, একটি পরিবার, একটি ব্যক্তিগত জীবন এবং কখনো কখনো গভীর সংকট। তাই আমাদের উচিত
মানবিক হওয়া।
অন্যের দুর্বল মুহূর্তকে উপহাস নয়—সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।
প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা আরও সংযত করুন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কলঙ্ক কমান। আইনি ও প্রশাসনিক দায় স্পষ্ট করুন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply