
নাটোর সদর হাসপাতালে নারী ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল: আউটসোর্সিং কর্মীসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
মোস্তফা প্রামানিক
নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু কন্যাকে চিকিৎসা করাতে এসে এক নারী ধর্ষণ ও পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী অমিত এবং তার দুই সহযোগী অনিল ও প্রাঙ্গণ।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, গত শুক্রবার (৫ জুন) ভুক্তভোগী নারী তার অসুস্থ শিশু কন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর গত রবিবার (৭জুন)রাতে হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী অমিত ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে কৌশলে লিফটের মাধ্যমে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ তলার নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় দুই সহযোগী অনিল ও প্রাঙ্গণ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল ও পুনরায় নির্যাতনের চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে হাসপাতালের নার্স ও আনসার সদস্যরা ভুক্তভোগীকে খুঁজে না পেয়ে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল চত্বর থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল করা হবে।
এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি সেবামূলক ও সংবেদনশীল স্থানে এমন ঘটনা জননিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে।
মা–বোন ও মেয়েদের নিরাপত্তা আজ গভীর প্রশ্নের মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালসহ সব জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং দায়ীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply