
পলাশবাড়ীতে কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ
মাসুদ রানা,পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ
পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটি- উশনস স্কিম,এসইডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদ-প্তর,শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মেধাবী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল আলম।
শুক্রবার ১ আগস্ট সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান,বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে সহকারী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম নকি-বুল হাসান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম,পশ্চিম
মির্জাপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম, পলাশবাড়ী প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব শাহ আলম সরকার,বরিশাল দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান ও এসএম মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ফাবিহা তাবাসসুম ফিহা।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
মেধাবী মুখ যাচাই-বাছাইয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় মাত্র একজন মেধাবী কৃতি শিক্ষার্থী মোছা.
উম্মে হাবিবা আক্তার রিমি উত্তীর্ণ হয়েছেন।তাঁকে আনুষ্ঠানিক সনদ,ক্রেস্ট ও সরকারি নগদ অর্থ সহা-
য়তা প্রদান করা হয়।সৌভাগ্যবান শিক্ষার্থী রিমি
আক্তার ২০২০ সালে উপজেলার রওশনবাগ উচ্চ
বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২২ সালে পবনাপুর মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২০২৩ শিক্ষা
বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১০১
তম উত্তীর্ণ হয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।রিমি(৩য়
বর্ষ)পড়ালেখা করছেন।এ ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য
রিমি প্রথমত: মহান স্রষ্টার কৃপা,তাঁর বাবা-মা এবং
সর্বোপরি শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক মন্ডলিকে কৃতজ্ঞ চিত্তে
স্মরণ করেন।
উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বউলারপাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের কৃষিজীবী গোলাম রব্বানী সরকার
এবং গৃহিনী মোছা.রাজিয়া সুলতানা দম্পতির মেধাবী
মেয়ে রিমি আক্তার।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের
উত্তরে রিমি আক্তার অশ্রুসজল নয়নে জানান নানা দুঃখ-কষ্টের মধ্যদিয়ে পড়ালেখার পথচলা।
এসময় পড়ালেখার বিভিন্ন দিকের সফলতার কথা পুনর্ব্যক্তকরেন।রিমি অকপটে জানায় তাঁর পরিবার তেমনস্বচ্ছল নয়।নানা অভাব-অনটন,টানাপোড়েন এবংপিছুটান ছিল লাগোয়া।এসময় চেনা-পরিচিত জনের নিকট সম্ভাব্য সহায়তা চেয়েও নিরাশ হতে হয়েছে বলেজানান।অর্থাভাবে সময়মত লেখাপড়ার ব্যয় মেটাতে পারেননি।অনেকের নিকট ধার হিসেবে অর্থ চেয়েও
শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন।প্রয়োজন মাফিক সঠিক
সময় বই-খাতা কিনতে পারেননি বলে জানান।
তদুপরি পড়ালেখার অদম্য আগ্রহ থেকে রিমি আক্তার
থামিয়ে যাননি-দমিয়ে যাননি।নানা পিছুটানের হাত-
ছানির মধ্যদিয়ে রিমি আক্তার নিয়মিত পড়ালেখা
এগিয়ে নিয়েছেন।না কোনো শহর-বন্দর কিংবা অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নয়।ঘোর পল্লীর অনুন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রিমি পড়ালেখা করে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করছেন।ভবিষ্যতে কি হতে চায়
জানতে চাইলে রিমি আক্তার লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে একজন সৎ এবং দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবার ইচ্ছে পোষণের কথা জানান।
ভবিষ্যতে যেন আরো ভালো করতে পারেন।বাবা-মা’র
মুখ যেন উজ্জ্বল করতে পারেন এজন্য তিনি সর্বস্তরের
সবার আন্তরিক দো’আ কামনা করেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply