
পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান যখন জামায়াতের ওয়ার্ড আমির: এলাকা জুড়ে সমালোচনার ঝড়,
নিজস্ব প্রতিবেদক, উজ্জল প্রধান
পিতা-মাতার প্রতি চরম অবাধ্যতা ও পারিবারিক নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম গাইবান্ধা জেলা সাদুল্লাপুর উপজেলার ৫ নং ফরিদপুর ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ড আমির নুরুল আমিন পিতা সাখাওয়াত আমিন এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে স্থানীয় এলাকায়। একজন দায়িত্বশীল দলীয় পদের ব্যক্তির এমন আচরণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও চরম অস্বস্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলটির কঠোর গঠনতান্ত্রিক নীতি এবং ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থী হওয়ায় ওই নেতার পদে থাকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ওয়ার্ড আমির নুরুল আমিনের আপন মামা মুকুল সরকার বলেন আমার আপন ভাগিনা নুরুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার সাথে চরম দুর্ব্যবহার, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং তাদের আইন ও সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছেন।প্রতিবেশী মামাতো বোনকে উভয়ের পিতা-মাতার অমতে বিয়ে করে। দুই সন্তানের পিতা হলেও বাবা মার সাথে এখন পর্যন্ত সুসম্পর্ক নেই, বাবা-মার চোখের সামন দিয়ে বড় মাছ- মাংস ক্রয় করে নিয়ে গেলেও পিতা মাতাকে কোনদিন এক টুকরো মাংস দেয় না।
চাচাতো মামা সালামত আলী বলেন, ন্যাংটা হয়ে মসজিদে কু মন্ত্র পাঠ করে,সমাজে যত অশ্লীল কাজ সম্পাদন করে, কুফরি কাজ: তাবিজ বা ফকরালীর নামে গভীর রাত পর্যন্ত ফার্মেসির দোকানে মহিলাদের চিকিৎসা দেওয়া, পানি পড়া, তাবিজ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে, তিনি আরো বলেন এ রকম জঘন্য ব্যক্তি কি করে জামায়াতের দায়িত্বশীল পদে থাকে। পিতা-মাতার অবাধ্যতা , পারিবারিক কোন্দল এবং সমাজে ঘৃণিত কাজ এখন আর ঘরের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। একজন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নৈতিকতার দাবিদার নেতার ঘর থেকেই এমন ইসলাম পরিপন্থী আচরণ আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ৫ নং ফরিদপুর ইউনিয়নের ৮ নং বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আনারুল হক প্রধান বলছেন, “যিনি নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতাকে সম্মান দিতে পারেন না, তিনি কীভাবে সমাজের নেতৃত্ব দেবেন?”
ইসলামী শরীয়ত ও ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে বিশ্লেষণ
ইসলামী শরীয়তে পিতা-মাতার আনুগত্য ও সেবাকে অত্যন্ত কঠোর ও আবশ্যিক (ফরজ) কর্তব্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
• কুরআনের নির্দেশ: পবিত্র কুরআনের সূরা বনী-ইসরাঈলের ২৩-২৪ নম্বর আয়াতে পিতা-মাতার সাথে উফ (বিরক্তি প্রকাশ) শব্দটুকু বলতেও নিষেধ করা হয়েছে।
• হাদীসের বিধান: রাসূলুল্লাহ (সা.) পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে ‘কবিরা গুনাহ’ বা সবচেয়ে বড় মহাপাপগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (আক্বুল ওয়ালিদাইন) সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নেতৃত্বের অযোগ্য এবং এমন ব্যক্তির পেছনে বা নেতৃত্বে দ্বীনি কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী।
জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অত্যন্ত কঠোর নৈতিক শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দলটির গঠনতন্ত্রের ৭২ নং ধারা অনুযায়ী, যেকোনো সাংগঠনিক স্তরের দায়িত্বশীল বা সভাপতি পদের জন্য ব্যক্তির দ্বীনি জ্ঞান, আল্লাহ-ভীতি এবং উচ্চ নৈতিক চরিত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
একই সাথে গঠনতন্ত্রের ৬ নং ধারা (সদস্য পদের যোগ্যতা) এবং শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি নৈতিক স্খলন, চারিত্রিক ত্রুটি কিংবা ইসলাম পরিপন্থী কোনো বড় গুনাহের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি দলের কোনো পদে থাকার যোগ্যতা হারান। পিতা-মাতার অবাধ্যতা যেহেতু একটি প্রকাশ্য নৈতিক স্খলন, তাই গঠনতান্ত্রিকভাবে ওই ব্যক্তি ওয়ার্ড সভাপতি/ আমির পদে বহাল থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনীতি ও ধর্মীয় বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্বের বক্তব্য
এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল এবং এখানে কোনো প্রকার অনৈতিকতা বা সামাজিক অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। পিতা-মাতার অবাধ্যতার বিষয়টি ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে তদন্ত সাপেক্ষ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি—দ্বীন ও নৈতিকতার দাবিদার এই দলটির উচিত অনতিবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে সমাজের বুকে ইসলামের ভুল বার্তা না যায়।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply