1. admin@crimetalashteam.com : crimetalashteam : crimetalashteam
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে শিশু বিক্রি ও মা নিখোঁজ: ৯ বছরেও মেলেনি দেবী বিশ্বাসের সন্ধান

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ২১৯ Time View

ফরিদপুরে শিশু বিক্রি ও মা নিখোঁজ: ৯ বছরেও মেলেনি দেবী বিশ্বাসের সন্ধান

​ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:   ক্রাইম তালাশ টিম নিউজ ডেক্স

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নে সন্তানজন্মদানের পর নবজাতক বিক্রি এবং প্রসূতি মা নিখোঁজ হওয়ার একটি লোমহর্ষক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবার তাদের সন্তান বা নিখোঁজ মেয়ের কোনো সন্ধান পায়নি। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​ঘটনার সূত্রপাত
​অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে পশ্চিম আলগী গ্রামের সুনীল বিশ্বাসের মেয়ে দেবী বিশ্বাসের সঙ্গে তার স্বামীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই সুযোগে স্থানীয় মিন্টুর স্ত্রী জরিনা ও তার বোন ফিরু দেবী বিশ্বাসের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। দেবীর সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে গত ৩ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাকে ঢাকার কালামপুরে ফিরুর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
​অঙ্গাতবাস ও শিশু বিক্রি
​অভিযোগ রয়েছে, ১২ দিন আটকে রাখার পর গত ১৪ অক্টোবর সোমবার দুপুরে দেবী বিশ্বাসের একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। জ্ঞান ফেরার পর অভিযুক্ত জাকির হোসেন দেবীকে জানান যে বাচ্চা অসুস্থ এবং তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে দেবীকে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে জানানো হয় বাচ্চা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই দেবী বিশ্বাস নিখোঁজ রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা দেবীকেও পাচার করে দিয়েছে।
​অভিযুক্তদের পরিচয়
​ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আলিপুর গ্রামের আলী ফকিরের ছেলে মো. জাকির হোসেনের নাম উঠে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, মিন্টুর স্ত্রী জরিনা, মিন্টু এবং ফিরু একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য। তারা জোরপূর্বক রোগীদের ক্লিনিকে আনা-নেওয়া এবং মোটা অঙ্কের বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বাচ্চা বিক্রির সাথে জড়িত।
​পরিবারের হাহাকার ও প্রশাসনের ভূমিকা
​নিখোঁজ দেবী বিশ্বাসের মা আরতী বিশ্বাস ও বাবা সুনীল বিশ্বাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমরা গরীব বলে আমাদের কথা কেউ শুনছে না। ৯ বছর হয়ে গেল মেয়েটা কোথায় আছে জানি না।” তারা আরও জানান, ভাঙ্গার নিকোর হাট বড় বাড়ি মাদ্রাসার পাশের এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে বাচ্চাটি বিক্রি করা হয়েছে।
​তৎকালীন সময়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এবং সিরাজুল (সিরুল) নামক দারোগা দায়িত্বে থাকলেও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে দেবী বিশ্বাস ও তার সন্তানদের উদ্ধার এবং এই চক্রের হোতা জাকির হোসেনসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় মাতুব্বর ও সুশীল সমাজ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি