
গৌরীপুরে বিএনপি নেতার পাম্পে তেল গায়েবের চাঞ্চল্য: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ম্যানেজার গ্রেপ্তার
ব্যরো চীফ ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অবৈধ মজুদের অভিযোগে ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’-এ অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে গত ৬ দিনে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত ওই ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ফিলিং স্টেশনটির মালিক গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি’র নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ডিপোর সরবরাহকৃত তেলের চালানের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের মজুদ যাচাই করা হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভৈরব বাজার ডিপো থেকে কয়েক দফায় মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তারা মাত্র ৯ হাজার লিটার তেল পেয়েছে। বাকি প্রায় ৫০ হাজার লিটার তেলের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি তারা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফার আশায় তেল অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
জ্বালানি মজুদের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং সরকারি কাজে অসহযোগিতার অভিযোগে ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর গ্রামের মো. উসমান গণির ছেলে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পাম্পের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো, অথচ পেছনের দরজা দিয়ে চড়া দামে তেল বিক্রি করা হতো।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply