
ভালুকা ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে সেবাগ্রহীতাদের ক্ষোভ
ব্যুরো চীফ, ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত চার ক্ষমতাধর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জোরালো আওয়াজ উঠেছে উপজেলা জুড়ে।
গত ১২ মার্চ ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন, সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম এবং মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা উপজেলাব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সংবাদটি প্রকাশের পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চার কর্মকর্তার কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নামজারি, দখল প্রতিবেদন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন কিংবা পুলিশের প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে ইচ্ছামতো প্রতিবেদন প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা জানান, সার্টিফিকেট মামলা সংক্রান্ত নথি নিষ্পত্তি, দ্রুত কাগজ প্রস্তুত এবং অনুকূলে আদেশ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে টাকা না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা কিংবা নানা অজুহাতে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া মিউটেশন সহকারী ও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত প্রায় ১১৭০ টাকার মিউটেশন ফি বাস্তবে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, ভূমি অফিসে এখন দালাল ছাড়া কাজ করা প্রায় অসম্ভব। সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা, যাতে করে সাধারণ মানুষ হয়রানি ছাড়াই ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে পারেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply